Showing posts with label Serampore. Show all posts
Showing posts with label Serampore. Show all posts

Wednesday, April 09, 2025

শ্রীরামপুরঃ ফেরি ঘাট, রায় ঘাট, নিশান ঘাট, পশু পাখির হাট

শ্রীরামপুরে যে ফেরি ঘাট-টি আছে সেটি গঙ্গা পেরিয়ে বারাকপুরের ধোবিঘাটের সাথে যুক্ত। এই ঘাটটি চাঁদনি ঘাট নামেও পরিচিত হলেও যুগল আঢ্য ফেরিঘাট নামেই বেশি পরিচিত। এছাড়া বল্লভপুরের ঘাট যুক্ত ওপারে রাসমণি ঘাটের সাথে, মাহেশের জগন্নাথ ঘাট যুক্ত ওপারের টিটাগড়ের লক্ষ্মী ঘাটের সাথে। যুগল আঢ্য ঘাট এবং ধোবিঘাটের মধ্যে ফেরি যোগাযোগের ইতিহাস অনেক পুরোনো, প্রায় ৩০০ বছর - প্রথমে নৌকা চলত। পরে আসে ভুটভুটি। এক সময় লঞ্চও চলত। কিন্তু গঙ্গার নাব্যতা কমে যাওয়ায় লঞ্চ বন্ধ হয়ে ভুটভুটি ফিরে আসে। ব্রিটিশ আমলে নাকি বারাকপুরের এই ঘাটে জামা-কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করত ধোপারা। সেই থেকেই এই ঘাটের নাম হয়ে যায় ধোবিঘাট।

Tuesday, December 10, 2024

শ্রীরামপুর রাজবাড়ি/ গোস্বামী বাড়ি

"ধর্ম মানে আজান, ধর্ম মানে কাওয়ালি,  মাইকেল এঞ্জেলোর পেইন্টিং। কত কত ফ্রেস্কোস, কত কত মন্দিরের গায়ে অসংখ্য কারুকার্য। ধর্ম মানে বাইবেল , কোরান, গীতা, ধর্ম মানে সাহিত্য, লিটারেচার। ধর্ম মানে এক কথায় আর্ট!"

শ্রীরামপুর রাজবাড়ি নিয়ে বলার আগে গোস্বামী পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া দরকার। এর সাথে সাথে দেখে নেব গোস্বামী পুরনো বাড়ি - যেখানে 'বুড়ি দূর্গা' পূজা হয়, গোস্বামীদের রাসমঞ্চ এবং রাজা কিশোরীলাল গোস্বামীর বাড়ি। 

স্থানীয় মানুষ এই বাড়িটিকে শ্রীরামপুর রাজবাড়ি বললেও এটি আসলে গোস্বামীদের ঠাকুর দালান বাড়ি। অনেকে এটিকে গোস্বামী ম্যানসন বলেও থাকেন।  

Wednesday, May 15, 2024

শ্রীরামপুরের অগ্নিযুগের বিপ্লবী গোপীনাথ সাহা

গোপীনাথ সাহাকে বাদ দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্রীরামপুরের অবদান লেখা যায় না। গোপীনাথের জন্ম বরানগরে - ১৯০৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে। এর কিছুদিন আগেই ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের আদেশে বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়। এর ফলে সেই সময়ে বাংলায় এক প্রচণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। যারা ধর্মকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপক্ষে ছিলেন তারা কেউই বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন জানাননি। কেননা, বঙ্গভঙ্গের অন্যতম একটি কারণ ছিল ব্রিটিশ সরকারের ‘বিভক্ত ও শাসননীতি' (Divide and Rule Policy), পরবর্তীতে যাতে তারা সফল হয়।

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ার রাজধানী কলকাতা থেকে চলে আসে দিল্লীতে। 

Thursday, August 24, 2023

শ্রীরামপুর: টাউন হল

শ্রীরামপুর টাউন হল

শ্রীরামপুর স্টেশনের কাছেই উত্তরের রেলগেটের কাছে অবস্থিত শহরের টাউন হল, অবশ্য পোশাকি নাম রাজা কিশোরীলাল গোস্বামী মেমোরিয়াল হল। আজকে ১ নং এন.এস এভেন্যুউ-এ অবস্থিত বাড়িটি আবার একাধারে শ্রীরামপুর গণগ্রন্থাগার (Shreerampur Public Library) এবং শ্রীরামপুর পৌরসভার অফিসও বটে। এই বাড়িটিতে পৌরসভা পরিচালিত একটি অনুষ্ঠান ঘরও আছে।

Tuesday, August 08, 2023

শ্রীরামপুর - টি, সি, গোস্বামী ষ্ট্রীটের অন্যান্য বাড়িগুলি

শ্রীরামপুরের টি.সি.গোস্বামী ষ্ট্রীটের একটি বাড়ি নিয়ে আগেই লিখেছি - হানা হাউস। এই রাস্তার উপর আরো কয়েকটি পুরোনো বাড়ি আছে।   

Home of Bose Family, TC Goswami Street

35 T.C.Goswami Street-এ আছে বোস পরিবারের পরিত্যক্ত বাড়ি, একদম শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালের গা ঘেঁষে। 

Sunday, April 02, 2023

শ্রীরামপুরঃ ডেনমার্ক ট্যাভার্ন

The Denmark Tavern

সত্যি কথা বলতে শ্রীরামপুর বা ফ্রেডরিকনগরের ইতিহাস নিয়ে হঠাৎ করে এই উৎসাহের পিছনে সবথেকে বড় কারণ এই সংস্কারের পরে ডেনমার্ক ট্যাভার্নের নতুন করে চালু হওয়া। ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ট্যাভার্ন  আবার পথচলা শুরু করে ২০১৮ সালে।

'Tavern' শব্দটি এসেছে পুরোনো French word 'taverne' থেকে, যার উৎপত্তি কিন্তু ল্যাটিন শব্দ 'taverna' - যার মানে দাঁড়ায় একঘরবিশিষ্ট দোকান। 

ভারতের সবথেকে প্রাচীন সরাইখানা বোধহয় এই ডেনমার্ক ট্যাভার্ন। বছর কয়েক আগেও এই সরাইখানা ছিল গঙ্গার ধারে একটি ভাঙ্গা বাড়ি, কেউ এই বাড়িটি নিয়ে ভাবেনি, এর ইতিহাসও কেউ খুঁজে দেখেনি। ২০১০ সালে 'শ্রীরামপুর ইনিশিয়েটিভ' এর মাধ্যমে এই ভাঙ্গা বাড়ির ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারপর ২০১৫ সাল থেকে ড্যানিশ মিউজিয়মের উদ্যোগে একে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়।  

Thursday, March 23, 2023

শ্রীরামপুরঃ চাতরা সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির

''জেনেছি জেনেছি তারা
তুমি জানো ভোজের বাজি।
যে তোমায় যেভাবে ডাকেতাতে তুমি হওমা রাজি।।
মগে বলে ভরা তারাগড বলে ফিরিঙ্গি যারা
খোদা বলে ডাকে তোমায় মোগল পাঠান সৈয়দ কাজী।।

শাক্তে বলে তুমি শক্তিশিব তুমি শৈবে ভক্তি
সরি বলে সূর্য তুমি বৈরাগী কয় রাধিকাজী।।
গানপত বলে গণেশযজ্ঞ বলে তুমি ধনেশ
শিল্পী বলে বিশ্বকর্মাবদর বলে নায়ের মাঝি।।

Wednesday, March 22, 2023

শ্রীরামপুরের শীতলা পুজো ও মেলা (চাতরা শীতলাতলা ও পটুয়াপাড়া)

শ্রীরামপুরের চাতরার শীতলাপুজোও খুব বিখ্যাত। এখানে পূজিত হন শ্রীরামপুরের তিন মা - বড় মা, মেজ মা এবং ছোট মা। তিন মা-ই আসলে মা শীতলা।  

প্রায় ২০০ বছর আগে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বসন্ত রোগ এক সময় মহামারীর আকার ধারণ করেছিল শ্রীরামপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে সাধক রামদাস শুরু করেন শীতলা পুজো। প্রসন্ন হয়ে দেবী শ্রীরামপুর ও সংলগ্ন এলাকাবাসীকে রোগমুক্ত করেন। আজ ভক্তদের একাংশের কাছে তিনি শ্রীরামপুরের রানি মা। আবার কিছু ভক্তের কাছে তিনি বড় মা। ঐতিহাসিক সুধীরকুমার মিত্র মনে করেন, বাংলা সালের ১২৬০ এর দশক থেকে এখানে শীতলা দেবীর আরাধনা চলছে। বর্তমানে শীতলা এস্টেষ্ট এই মন্দির এবং পুজোর দেখভাল করে। 

Monday, March 06, 2023

শ্রীরামপুর : গোলোক ধাম

Outer Courtyard of Golok Dham (Serampore) (2020)

গোলোকধাম শ্রীরামপুরের অন্যতম বিখ্যাত পুরোনো বাড়িগুলির মধ্যে একটি। ৪৩ Queen's street, বা অধুনা নেতাজি সুভাষ এভিন্যুউ-তে অবস্থিত এই বাড়িটি আসলে রায় পরিবারের বাড়ি। এই বাড়িটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোলোকচন্দ্র রায়। মনে করা হয় যে তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও শিষ্য,বিখ্যাত বৈষ্ণব মাধব চন্দ্র বা মাধাই পণ্ডিতের ১৪-তম বংশধর।  

Friday, March 03, 2023

শ্রীরামপুরঃ ড্যানিশ সরকারি ভবন ও অন্যান্য



উনিশ শতকে ষাটের দশকে নাট্যকার ও কবি দীনবন্ধু মিত্র কিছুদিন শ্রীরামপুরে পােষ্টমাস্টার হয়ে ছিলেন। তাঁর 'সুরধুনী' কাব্যে তিনি এই শহর সম্পর্কে যা বর্ণনা দিয়েছেন-

Wednesday, March 01, 2023

শ্রীরামপুরঃ ইম্যাকুলেট কনশেপশন চার্চ

Immaculate Conception refers to the doctrine that God preserved the Virgin Mary from the taint of original sin from the moment she was conceived; it was defined as a dogma of the Roman Catholic Church in 1854. 

Main Church Building

13 মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত এই সুন্দর রোমান ক্যাথলিক চার্চটি 1776 সালে নির্মিত হলেও, এই গির্জার ইতিহাস আরো পুরোনো। 1764 সালে ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের জন্য একটি ছোট চ্যাপেল তৈরি করা হয়েছিল, সেটিই পরে পুনঃগঠিত হয়ে এই ইম্যাকুলেট কনশেপশন চার্চ (Church of The Immaculate Conception)-এ পরিণত হয়। বর্তমানে এটি Roman Catholic Archdioces of Calcutta-এর অধীনে।

শ্রীরামপুর : চাতরার দোল মন্দির / কাশীশ্বর পীঠ

গৌরাঙ্গ মন্দির, কাশীশ্বর পীঠ বা কাশীশ্বর পণ্ডিতের শ্রীপাট, দোলতলা মন্দির নামেও এই মন্দিরটি পরিচিত। নামেই পরিষ্কার যে এই মন্দিরটি কাশীশ্বর পণ্ডিত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। 

ফ্রেডরিকনগরের দক্ষিণে মাহেশ ও বল্লভপুর আর উত্তরে চাতরা - বৈষ্ণবদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে বল্লভপুরের রাধাবল্লভ মন্দিরের স্থাপনা এই কাশীশ্বর পণ্ডিতের ভাগ্নে রুদ্ররামের হাতে৷ 

এই মন্দিরে দোল পার্বণ খুব ধুমধাম করে পালন হয়। তাই এর নাম দোল মন্দির বা দোলতলা মন্দির। উঁচু ভিত্তিবেদীর উপরে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণমুখী সমতল ছাদ বিশিষ্ট 'কাশীশ্বর পীঠ' মন্দিরের ছাদের উপরে পূর্ব-পশ্চিমে পাশাপাশি স্থাপিত তিনটি পিরামিড আকৃতির চূড়া দেখে মনে হয়, এখানে বাস্তুশাস্ত্রের ভাষায় 'ত্রৈকুটক' রীতিতে নির্মিত পাশাপাশি ও পরস্পর-সংলগ্ন তিনটি মন্দির রয়েছে। এদের মধ্যে মাঝখানের মূল মন্দিরের চূড়াটি অপেক্ষাকৃত উঁচু। মূল মন্দিরের সামনে দরজা এবং পিছনে জানালা। দুই পাশের মন্দিরগুলির সামনে এবং পাশে দুইটি করে দরজা। মূল মন্দির থেকে পাশের মন্দিরগুলিতে যাওয়ার জন্য ভিতরে আরও একটি করে দরজা আছে। তিনটি মন্দিরের সামনে একটি বারান্দা আছে, যা অনেক পরে নির্মিত হয়েছে।

Tuesday, February 28, 2023

শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতাল

ইউরোপীয়দের আসার আগে গ্রামগঞ্জে তখন কবিরাজি চিকিতসাই ভরসা ছিল। শ্রীরামপুরও তখন এই কবিরাজি চিকিতসার ভরসাতেই চলত। এই কবিরাজি চিকিতসকরা থাকতেন কাছেই, যার নাম বৈদ্যবাটি। মুসলিমদের জন্য ছিলো হাকিমী চিকিৎসা। এছাড়া তন্ত্র, যাদু, তাবিজ, কবজ, ঝাড়-ফুক, তুকতাক, জল পোড়া, তেল পোড়া এসবতো ছিলোই। উন্নত বৈজ্ঞানিক  চিকিৎসা পদ্ধতির নাম গন্ধও তখন ছিলো না। দিনেমার সরকার ও শ্রীরামপুর মিশনারীদের হাত ধরেই শ্রীরামপুরে পশ্চিমী অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা শুরু হয়।  

১৮৩৪-৩৫ সালে শ্রীরামপুর তথা ফ্রেডরিকনগরের দিনেমার গভর্নর জে. রেখলিং, ডঃ মার্শম্যান ও চিকিৎসক ডঃ ডয়েটের বিশেষ উদ্যোগে এক সভায় শহরের মাননীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। 

শ্রীরামপুর: জেল/উপসংশোধনাগার

আজকে ঋষি বঙ্কিম সরণীর উপর অবস্থিত শ্রীরামপুর জেলটি ১৮০৩ সালে ড্যানিশ প্রশাসন তৈরি করেন। ভারতে এটি ছিল ড্যানিশদের অধীনস্থ দ্বিতীয় কারাগার। ড্যানিশ উপনিবেশ শ্রীরামপুরে খুব বিশাল বড় কিছু না হলেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি কোর্টঘর এবং জেল বা কাছারীর (catcherie/cutchery) খুবই দরকার ছিল। বলে রাখা ভালো এই Catcherie শব্দটি এসেছে হিন্দী/বাংলার কাছারী শব্দ থেকে। 

Sunday, February 26, 2023

শ্রীরামপুরঃ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর মন্দির

শ্রীরামপুরের শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর মন্দিরটি ৮৩, ঋষি বঙ্কিম সরণিতে অবস্থিত। এই মন্দিরের ঠিক পাশেই নিউগেট এ্যাথলেটিক ক্লাবের মাঠ।

সামনে নাটমন্দির সমেত এই মন্দিরটি একটি ছিমছাম মন্দির - তিনরত্ন চূড়া বিশিষ্ট। 

এই মন্দিরের নাটমন্দিরটি ১৯৯০সালে ৬নং আখড়া বাটি লেন-বাসী শ্রী শীতল কুণ্ডু, শ্রী বিশ্বনাথ কুণ্ডু এবং ২৪ নং রাজা লেন, কলিকাতা-৯ বাসী শ্রীমতি মেনকা পাল তৈরি করে দেন।  

শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর মন্দির

এই মন্দিরের পিছনে একটি দোতলা বাড়ি আছে, যেটি সম্ভবত মন্দিরের ভাড়ার ঘর এবং অতিথিশালা ছিল। এই বাড়িটির অবস্থা এখন খুবই খারাপ। 

Friday, February 24, 2023

শ্রীরামপুর: ইউনিক লজ

বর্ধমান-হুগলীর সীমান্তের দেবীপুর গ্রামের ভট্টাচার্য পরিবার ১৮০০ শতকের শুরুতে যশোরে চলে এলেও ১৮৬০ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথামত কালীনাথ ভট্টাচার্য শ্রীরামপুরে এসে বসবাস শুরু করেন। কালীনাথ ছিলেন সংস্কৃতের পণ্ডিত - এখানে এসে দে পরিবারের শিশুদের শিক্ষক হিসাবে কাজ শুরু করেন। সেই শুরু ভট্টাচার্য পরিবারের শ্রীরামপুরের দে স্ট্রীটে থাকা। কালীনাথের ছেলে দূর্গাপ্রসন্ন (স্থানীয়দের কাছে পাঁচুবাবু বলে পরিচিত) চিকিৎসক হতে চাইলেও পরে পেশা হিসেবে বেছে নেন বাড়ি তৈরির কাজকে। ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করতে থাকেন একের পর এক জুট মিল, সরকারি-বেসরকারি বাড়ি।

অর্থাজনের সাথে সাথে তিনি ছিলেন শৌখিন মানুষ। কলকাতার রাজেন্দ্র মল্লিকের মার্বেল প্যালেস ও চিড়িয়াখানার অনুকরণে দূর্গাপ্রসন্ন তৈরি করেন এই ইউনিক লজ এবং ডগ কেনেল। মূল দরজার বাইরে আছে দুটি সিংহ মূর্তি - এই জন্য ২১ নম্বর দে স্ট্রিটের এই বাড়িটি ‘সিংহ বাড়ি’ নামে পরিচিত। 

Thursday, February 23, 2023

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশন

শিক্ষার দিক থেকে শ্রীরামপুর কলকাতার থেকে কিছু কম ছিল না। ১৯০০-এর আগেই  এখানে তিনটি স্কুল স্থাপিত হয় - দে স্ট্রীটে বল্লভপুর হাই স্কুল (১৮৬৭), কৃষ্ণমোহন ভট্টাচার্য স্ট্রীটে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশন (১৮৮৪) এবং চাতরায় নন্দলাল ইন্সটিটিউশন (১৮৭৩)। 

কলকাতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৬৪ সালে মেট্রোপলিটন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এই শুনে শ্রীরামপুরের কিছু ভদ্রলোক কলকাতায় গিয়ে বিদ্যাসাগরের সাথে দেখা করে শ্রীরামপুরে এই স্কুলের একটি শাখা খুলতে অনুরোধ করেন। বিদ্যাসাগর মহাশয় তখন তাঁদেরকেই উৎসাহিত করেন নিজেদেরকেই একটি বিদ্যালয় শুরু করতে। 

Tuesday, February 21, 2023

শ্রীরামপুর কুণ্ডু বাড়ি

কুণ্ডু বাড়ির খোঁজ আমি পাই ইণ্টারনেটে কিছু পোস্ট থেকে। শ্রীরামপুরে যে কয়েকটি বনেদীবাড়িতে দুর্গাপূজা হয় কুণ্ডুবাড়ি তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৮৮৫ সাল নাগাদ থাকোগোপাল কুণ্ডু এই দুর্গাপূজার সূচনা করেন। ইনি ছিলেন ঘি আর আখের গুড়ের ব্যবসায়ী - বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে আমদানি করে বেশ পয়সা কামিয়ে ছিলেন। প্রথমে কুণ্ডুবাড়ির দূর্গা দালান বা চণ্ডীমণ্ডপটি ছিল খড় এবং মাটির তৈরি, পরে চুনসুরকি দিয়ে বানানো হয়। পরবর্তীকালে সিমেন্ট দিয়ে কিছু কিছু পুনঃনির্মাণ করা হয়। বর্তমান ঠিকানা ননীলাল ভট্টাচার্য ষ্ট্রীট।  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনী এই বাড়ির দখল নেয় এবং দূর্গাদালানটি ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে। সেই মুর্হুতে একটি ভূমিকম্প হয় এবং শেষ অবধি ব্রিটিশ সৈন্যরা দূর্গাদালানটি না ভেঙ্গেই কুণ্ডুবাড়িতে থাকতে থাকে। 

শ্রীরামপুর: দে বাড়ী

মাহেশ, বল্লভপুর ঘুরে এবার গন্তব্য শ্রীরামপুরের মূল শহর। 

এবার আমাদের গন্তব্য দে স্ট্রীট। প্রথমেই যাব দে বাড়িতে। ঠাকুরদালান সম্বলিত এই বাড়ি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো আর এখানকার দূর্গাপুজোও খুব বিখ্যাত। হুগলি জেলার বনেদী বাড়ির পুজোর লিস্ট করতে বসলে দে বাড়ির পুজোকে বাদ দেওয়া যাবে না। কাছেই দে ঘাট - দে পরিবার নিজেদের জন্য বানালেও এখন সবার জন্যই খোলা। এই ঘাটে এখন বেশ কিছু ছোট মন্দির দেখতে পাওয়া যায় - করুণাময়ী কালীমাতা, চৌরঙ্গী বাবা এবং দূর্গামাতার মন্দির। 

দে বাড়িকে অনেকেই জমিদারবাড়ি বলে ভুল করে, কিন্তু এঁনারা ছিলেন মূলত কলকাতার বড়বাজারের লবণ ব্যবসায়ী। শ্রীজ্ঞানেন্দ্রনাথ কুমারের 'বংশ-পরিচয়' (২য় খণ্ড) (প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি, ১৯২২) থেকে জানা যায় যে ষোড়শ শতকের শুরুতে কলকাতা-সংলগ্ন দমদমার কাছে গীতী নামক গ্রামে এই বংশের আদি বাসস্থান ছিল, পরে শ্রীরামপুরের কাছে রিষিড়া গ্রামে চলে আসেন। মোটামুটি ১৭০০ এর শুরুতে এই বংশের পূর্ব-পুরুষ রামভদ্র দে ব্যবসা উপলক্ষে শ্রীরামপুরে স্থিতু হন। ১৭৪৮ সালে (বা ১৭৫০ সাল) দে পরিবারের দুর্গাপুজোর শুরু হয় রামভদ্র দে-র হাত ধরে।

Saturday, February 18, 2023

শ্রীরামপুর: বল্লভপুরের রাধাবল্লভ জীউ মন্দির

এবার আসুন বল্লভপুর। এখানে দেখে নিন ২৫০ বছরের বেশি পুরোনো রাধাবল্লভ মন্দির, সংলগ্ন রাসমঞ্চ, রাধা বল্লভ ঘাট। পাশেই আছে গঙ্গার ধারে নবনির্মিত শশ্মানকালীর মন্দির এবং উগ্রতারা তীর্থ। এর ঠিক উলটো পাড়ে বারাকপুর ও টিটাগড়ের মাঝে অন্নপূর্ণা মন্দির এবং রাসমণি ঘাট।  

রাধাবল্লভ জীউ মন্দির

এই রাধাবল্লভের মন্দির থেকেই এই এলাকার নাম হয় বল্লভপুর। 

এই মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে দুটি মত আছে। একমত বলে যে এই মন্দিরের বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করেন রুদ্ররাম। রুদ্ররাম ছিলেন শাক্ত এবং তাঁর মামা ছিলেন শ্রীরামপুরের চাতরা নিবাসী বৈষ্ণবচূড়ামণী, শ্রীচৈতন্য পরিকর, পণ্ডিত কাশীশ্বর।

কাশীশ্বর পণ্ডিত ছিলেন অত্যন্ত গোঁড়া বৈষ্ণব। তিনি প্রতিদিন নিজের হাতে তাঁদের কুলদেবতা শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতেন। তিনি কোন অ-বৈষ্ণবকে এই বিগ্রহ  ছুঁতে দিতেন না। একদিন কোন কারণে তাঁর বাড়িতে ফিরতে দেরি দেখে তাঁর ভাগনে রুদ্ররাম শ্রীকৃষ্ণের পূজা সম্পন্ন করেন। বাড়ি ফিরে এসে কাশীশ্বর এই দেখে খুবই রাগ করেন এবং রুদ্ররামকে গালিগালাজ করেন। মনের দুঃখে রুদ্ররাম বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসে আকনায় (এখন বল্লভপুর) গঙ্গার ধারে এক জায়গায় আশ্রয় নেন এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রার্থনায় মগ্ন হন।