Pages

Friday, March 17, 2023

শ্রীরামপুরঃ হুগলী ব্যাঙ্ক ভবন

Advertisement of Hooghly Bank Ltd.
শ্রীরামপুর স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে যদি উত্তর থেকে দক্ষিণে হেঁটে আসেন তাহলে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের বাড়িটি। ভালো করে লক্ষ্য করলে চারটি Corinthian থামের উপর এই তিনতলা বাড়িটির স্থাপত্য বুঝতে পারবেন। এটি একসময় ছিল হুগলী ব্যাঙ্ক ভবন। 

স্বাধীনতার আগে ১৯৩২ সালের ১৬ই আগষ্ট হুগলী ব্যাঙ্ক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠা করেন উত্তরপাড়া নিবাসী ডি.এন. মুখার্জি। সেই সময়ে বাংলা জুড়ে ব্যাঙ্কিং সিস্টেম সেই অর্থে ছিল না বললেই চলে। ফলে এই ব্যাঙ্কের দ্রুত উন্নতি ঘটে। 

স্বাধীনতার সময়, অর্থাৎ ১৫ বছরের মধ্যেই অবিভক্ত বাংলা জুড়ে হুগলী ব্যাঙ্কের শাখা ছিল ৩০টি। সদর অফিস ছিল কলকাতায়, ৪৩ ধর্মতলা স্ট্রীটে।

 
Hooghly Bank Bhawan, Serampore

Hooghly Bank Bhawan, Serampore (Now Serampore Branch of Punjab National Bank)

তবে এই বাড়িটি ১৯৪৭ সালে সেওড়াফুলি নিবাসী অনুশীলা ঘোষের সৌজন্যে কিনে নেন হুগলী ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ, শ্রীরামপুরের শাখাবাড়ি হিসেবে। এর প্রমাণস্বরূপ এই বাড়ির গায়ে একটি ফলক আছে (নীচের ছবি)।

হুগলী ব্যাঙ্ক ভবন

স্বাধীনতার ঠিক আগে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয় এবং সেই সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) কারণে এই মহামন্দা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। ব্রিটিশ-শাসনাধীন ভারত-ও এই মন্দার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সেই সময় বেশ কিছু ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যাংক অবলুপ্তির পথে চলে যায়। তবে হুগলী ব্যাঙ্ক সেই সময়েও ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছিল। 

তবে স্বাধীনতার পরে ক্ষেত্রনাথ দালালের প্রতিষ্ঠিত, নোয়াখালি/কলকাতা-স্থিত নাথ ব্যাঙ্ক ফেল করলে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ১৯৫০ সালে এই হুগলী ব্যাঙ্ক সহ আরো তিনটি কলকাতা-স্থিত ব্যাঙ্ক-কে জুড়ে দেয়। এগুলি ছিলঃ

১) কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন (Comilla Banking Corporation) -  প্রতিষ্ঠা ১৯১৪, নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। 

২) বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক (Bengal Central Bank) - ১৯১৮ সালে J. C. Das প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল সেন্ট্রাল লোন কোম্পানি লিমিটেড (Bengal Central Loan Company Ltd.), পরে যা হয় বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। 

৩) কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক (Comilla Union Bank) - ১৯২২ সালে ইন্দু ভূষণ দত্ত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। প্রসঙ্গত ইন্দু ভূষণ দত্ত বরানগরে রামেশ্বর বালিকা বিদ্যালয় গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। 

আর ৪) হুগলী ব্যাঙ্ক লিমিটেড - এই চারটি ব্যাঙ্কের সম্মিলনে তৈরি হয় ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইণ্ডিয়া (United Bank of India/UBI)

স্বাধীনতার পর প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং পরিষেবার অভাব ছিল। ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া দুটি মোটরবোট দিয়ে সুন্দরবন অঞ্চলে জলপথে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা শুরু করে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই রকম ব্যবসায়ী চিন্তাভাবনা ছিল অভূতপূর্ব। এই মোটরবোটগুলি ব্যাংকের শাখা হিসেবে কাজ করত এবং নদীর উপর দিয়ে ব-দ্বীপ অঞ্চলে পরিষেবা প্রদান করত।

Banking on the Water - United Bank of India (Source: Facebook)


Cash Certificate of The Hooghly Bank Limited (source: Facebook)


১৯৬১ সালে, কটক ব্যাঙ্ক (প্রতিষ্ঠা ৬ জুন ১৯১৩) এবং তেজপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক (প্রতিষ্ঠা ৬ জুন ১৯১৮, আসাম প্রদেশের প্রথম বাণিজ্যিক ব্যাংক) UBI-এর সাথে মিশে যায়।

১৯ জুলাই ১৯৬৯ সালে ভারত সরকার ১৩টি অন্যান্য প্রধান ভারতীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে সাথে UBI-কেও জাতীয়করণ করে। জাতীয়করণের সময় UBI-এর ১৭৪টি শাখা ছিল। এর পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে ইউবিআই হিন্দুস্তান মার্কেন্টাইল ব্যাংক (Hindustan Mercantile Bank, প্রতিষ্ঠা - ১৯৪৪) অধিগ্রহণ করে এবং ১৯৭৬ সালে নারাং ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (Narang Bank of India)-কে অধিগ্রহণ করে, যা ১৯৪৩ সালে গুজরাটের নারাংয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে প্রায় সারা ভারত জুড়ে UBI সম্প্রসারিত হয়। 

৩০শে আগস্ট ২০১৯ তারিখে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেন ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে মিশে গিয়ে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক সেক্টর ব্যাংক তৈরি করবে। ২০২০ সাল থেকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের অধীনে এই সব ব্যাঙ্কগুলি একসাথে কাজ শুরু করে। 

No comments: