Pages

Monday, November 11, 2024

ব্যারাকপুরের গপ্পোঃ অন্নপূর্ণা মন্দির

Annapurna Temple, Barrackpore (2010)


দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের আদলে তৈরি ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দির বা 'শিবশক্তি অন্নপূর্ণা মন্দির এবং দেবোত্তর এস্টেট' হল এই উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দুটি মন্দিরের একটি যেগুলিকে দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের আদলে বানানো এবং রাণী রাসমণির সাথে সম্পর্কিত। রাণীর ছোটমেয়ে এবং মথুরা মোহন বিশ্বাসের দ্বিতীয় স্ত্রী জগদম্বা দেবী এই মন্দির স্থাপন করেন। 

রাণী রাসমণি (১৭৯৩-১৮৬১) ছিলেন জানবাজারের জমিদার রাজচন্দ্র দাসের তৃতীয় স্ত্রী। প্রথম দুই স্ত্রীর অকালমৃত্যুর পর রাজচন্দ্র রাসমণিকে বিবাহ করেন ১৮০৪ সালে। 

Wide Angle Capture: Annapurna Temple, Barrackpore (2021)

Annapurna Temple, Barrackpore (2026)

হাওড়ার খোসালপুর গ্রামনিবাসী রাজচন্দ্রের ঠাকুরদা কৃষ্ণরাম ছিলেন বাঁশের ব্যবসায়ী, জাতে কৈবর্ত। তাঁর উপাধি হয়েছিল ‘মাড়’। কৃষ্ণরাম দাসের বোন বিন্দুবালা দাসীর বিয়ে হয়েছিল কলকাতার জানবাজারের জমিদার মান্না পরিবারে। পিসির বিয়ের পরে সম্পর্কের সূত্রে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে দুই ভাইকে নিয়ে থাকতে আসেন প্রীতিরাম। সময়ের সাথে দুই পরিবারের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয় - ১৭৭৭ সালে প্রীতিরামের বিবাহ হয় যুগল মান্নার মেয়ের সাথে। এই বিয়েতে প্রীতিরাম যৌতুক পান জানবাজারের কয়েকটি বাড়ি এবং ১৬ বিঘে জমি। প্রীতিরাম কাস্টমস হাউসে চাকরি করার পাশাপাশি চালের ব্যবসাও শুরু করেছিলেন। তাঁর আমলেই দাস বংশের আর্থিক উন্নতি শুরু হয়। নরাইল মহকুমার দক্ষিণে অবস্থিত 'পরগণা মোকিমপুর'-টি তিনি কিনে নেন। এটি ছিল নাটোরের রাজাদের এস্টেটের অংশ। প্রীতিরাম কলকাতায় সাহেববাজারেও কয়েকটি বাড়ি তৈরি করেন। প্রীতিরামের বড় ছেলে হরচন্দ্র মারা যান নিঃসন্তান অবস্থায়। আর রাজচন্দ্র ছিলেন প্রীতিরামের মেজো ছেলে। 

রাসমণিকে তাঁর মা আদর করে ‘রাণী’ বলে ডাকতেন, বিয়ের পরও এই রানী নামটি বজায় ছিল। 

আজকের বাবুঘাটের বাবু আসলে রাণীর স্বামী বাবু রাজচন্দ্র। রাণীরই  অনুরোধে গঙ্গার পাড়ে স্ট্রাণ্ড রোডে এই একটি ঘর ও পাকা ঘাট তৈরি করে দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী রাজচন্দ্র। ঘাটে প্রবেশের আগে বড়-বড় করে একটি ফলকে লেখাও রয়েছে সে কথা,—‘...দিস ঘাট কনস্ট্রাক্টেড ইন দ্য ইয়ার ১৮৩০ অ্যাট দ্য এক্সপেন্স অফ বাবু রাজচন্দ্র দাস শ্যাল হেয়ারআফটার বি কলড বাবু রাজচন্দ্র দাস ঘাট।’ শুধু ঘাট বানিয়েই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি, স্নানার্থী এবং পুণ্যার্থীদের বাবুঘাটে পৌঁছোনর জন্য তিনি চৌরঙ্গি থেকে চওড়া রাজপথ তৈরি করান। পরে সে রাস্তার নাম হয় অকল্যান্ড রোড, যা আজকে আমরা সবাই চিনি রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউ নামে। 

তবে কাজের মাপকাঠিতে বাবু রাজচন্দ্রকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী, রাণী রাসমণি। বাবুঘাটের বাবু কে সে এখন বলতে না পারলেও জানবাজারের রাণী যে রাসমণি সেকথা আজও মানুষ মনে রেখেছে। 

১৮৩৬ সালে স্বামীর মৃত্যুর পরে পুত্র না থাকায় ব্যবসা-জমিদারির একক দায়িত্ব বর্তায় রানী রাসমণির ওপর। মৃত্যুর আগে রাজচন্দ্র বিশাল জমিদারি ছাড়াও রেখে যান নগদ ৬৮ লক্ষ টাকা। তাঁর নামে বেঙ্গল ব্যাঙ্কের শেয়ার ছিল ৮ লক্ষ টাকার। এ ছাড়াও লোকের কাছে ধার দেওয়া ছিল ৩ লক্ষ টাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘জমিদারগিন্নি’ থেকে তাঁর উত্তরণ হয় আক্ষরিক অর্থেই ‘রাণী’-র উচ্চতায়।

রাণী রাসমণি ১৮৪৭ সালে বেনারসে গিয়ে দেবী অন্নপূর্ণাকে পূজা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই মতো তাঁরা জলপথে রওনা হওয়ার কথা ভাবলেও যাত্রা শুরুর আগে খুব ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। কেউ বলেন ২৫ টি নৌকা করে রাণী যাত্রাও শুরু করেছিলেন কিন্তু যাত্রার শুরুতেই ঝড়বৃষ্টি)। সেই দিন রাত্রে কালীভক্ত রাসমণি দৈবাদেশ পান যে গঙ্গার ধারে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবীর পূজার্চনা করতে। সেই মত কাশীযাত্রা স্থগিত রেখে রাণী দক্ষিণেশ্বরে গঙ্গার ধারে জমি কিনে আদ্যাশক্তি কালী বা ভবতারিণীদেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ এই ভবতারিণীদেবী পরাশক্তি আদ্যাকালীরই আরেক রূপ। 

দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির

যেহেতু রাসমণি চেয়েছিলেন দেবী অন্নপূর্ণার কাছে পুজো দেবেন, সেই কারণে তাঁর মনে একটু খেদ ছিল। মায়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করার উদ্দেশ্যেই রাণীর ছোট মেয়ে জগদম্বা দেবী এই অন্নপূর্ণা মন্দির স্থাপন করেন। যদিও রাণী এই মন্দির দেখে যেতে পারেননি -  ১৮৬১ সালে রাণী রাসমণি মারা যান। এরও ১৪ বছর বাদে ব্যারাকপুরের টিটাগড়/তালপুকুরে জগদম্বার অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। 

কেউ বলেন কাশী গিয়ে দেবী অন্নপূর্ণাকে পুজো করতে না পারার দুঃখ ছিল জগদম্বার স্বামী, রাণীর একান্ত কাছের লোক এবং শ্রীরামকৃষ্ণদেবের পরম ভক্ত মথুরা মোহন বিশ্বাসের। স্বামীর সেই অপূর্ণ ইচ্ছাকেই রূপ দিয়েছিলেন জগদম্বা। কিন্তু না রাসমণি, না মথুরাবাবু কেউ-ই এই মন্দির দেখে যেতে পারেননি। 

মথুরা মোহন বিশ্বাস মারা যান ১৮৭১ সালের ১৬ই জুলাই। মথুরাবাবুর ছেলে দ্বারিকানাথ তারপর থেকে মন্দির তৈরীর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তখনকার হিসেবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকায় এই মন্দির গঠন সম্পূর্ণ হয়। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের উপস্থিতিতে ১২ই এপ্রিল, ১৮৭৫ সালে এই মন্দিরে পূজাপাঠ শুরু হয়। কথামৃতে আছে, ঠাকুর বলেছিলেন - "আমি চানকের অন্নপূর্ণা প্রতিষ্ঠার সময় দ্বারিকাবাবুকে বলেছিলুম বড় দীঘিতে মাছ আছে গভীর জলে। চার ফেলো, সেই চারের গন্ধে ওই বড় মাছ আসবে। এক একবার ঘাই দেবে। প্রেম ভক্তিরূপ চার।" পরবর্তী সময়ে রামকৃষ্ণদেব এখানে আরো তিনবার এসেছিলেন। এসে বসতেন এই মন্দিরের প্রাঙ্গণেরই একটি বেলগাছের তলায়। সেই গাছটি এখনো আছে। 

মন্দিরের নিত্যসেবা ও পুজো পার্বণে ব্যয় ভারের জন্য জগদম্বাদেবী সেই সময়ে উপযুক্ত সম্পত্তি দিয়ে "অর্পণনামা" করেছিলেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী জেষ্ঠ্যানুক্রমে বংশের বয়োজ্যেষ্ঠ হবেন মন্দিরের সেবায়েত 

Natmandir of Annapurna Temple, Barrackpore (2010)

Natmandir of Annapurna Temple, Barrackpore (2021)


মন্দিরের পূর্ব দিকে রয়েছে সিংহমূর্তি যুক্ত লোহার ফটক - যা পেরিয়ে ঢুকে পরা যায় মন্দির প্রাঙ্গণে। শোনা যায়, মন্দিরের সিংহতোরণটিকে নাকি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভেঙে ফেলতে চেয়েছিল কারণ সিংহ ছিল ব্রিটিশদের নিকট আভিজাত্য ও বৈভবের প্রতীক। 

এই সেই অন্নপূর্ণা মন্দিরের সিংহ তোরণ

ফলে শুরু হয় আইনি টানাপোড়েন। শেষমেষ কোর্টের নির্দেশে এই সিংহতোরণ শিল্পের মর্যাদা পায় এবং রক্ষা পায় অন্নপূর্ণা মন্দিরের মূলফটক। কোর্টের আদেশ ছিল, “Art is art, let the art prevail." 

এই মন্দির প্রাঙ্গণে আছে মূল মন্দির, একটি নাটমন্দির, ছয়টি শিব মন্দির, দুটি নহবতখানা, ভোগের ঘর। 

ব্যারাকপুর অন্নপূর্ণা শিবশক্তি মন্দির

Annapurna Temple, Barrackpore

Shiva Temples of Annapurna Temple Complex, Barrackpore

Shiva Temples of Annapurna Temple Complex, Barrackpore

মূল মন্দিরটি বঙ্গীয় স্থাপত্যশৈলীর নয় চূড়া বিশিষ্ট নবরত্ন মন্দির - যদিও আকারে এবং বহরে দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের থেকে অনেকটাই ছোট। মন্দিরের প্রতি দিকেই পাঁচটি করে খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। খিলানগুলো প্রবেশপথের ওপর পাখার মতো সজ্জিত। প্রবেশপথের সিঁড়িগুলো শ্বেতপাথরে মোড়া। মন্দিরের দ্বিতল এবং ত্রিতলে যে নয়টি রত্ন সেগুলি খাঁজকাটা দেউলাকৃতি। প্রতিটির মাথায় চক্র স্থাপিত। 

মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্বেতপাথরের বেদি, অবস্থান করছেন শিব ও অন্নপূর্ণা। বেদীর ওপর রুপোর সিংহাসনে অষ্টধাতুর সালঙ্কারা দেবী অন্নপূর্ণা রৌপ্যশতদল আসীনা এবং দক্ষিণমুখী হয়ে বিরাজ করছেন। 

মা অন্নপূর্ণা এবং মহাদেব

অন্নদাত্রী মাতৃমূর্তি যাঁর ডান হাতে অন্ন দান করার হাতা আর বাঁ হাতে অন্নপাত্র। দেবীর ডানপাশে মহাদেব যাঁর একহাতে ত্রিশূল, অন্য হাতে ভিক্ষাপাত্র।

এই মন্দিরে দু'বেলা নিত্যপুজো এবং অন্নভোগ হয়। এখানে নিত্যভোগে মাছ থাকবেই। এরপর সন্ধ্যারতির সময় বিভিন্ন মিষ্টান্ন নিবেদন করা হয়। আগে পাঁঠাবলি হলেও এখন তা বন্ধ। বিভিন্ন উৎসবের সময় যেমন অন্নপূর্ণা পূজা, নীলষষ্ঠী, শিবরাত্রি, মঙ্গলচণ্ডী পুজো, বিপত্তারিণী পুজো, অম্বুবাচী, দূর্গাপুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, চৈত্র সংক্রান্তি - এই সবদিনে বিশেষ পূজা হয়। দেবীকে পরানো হয় বেনারসি শাড়ি ও সোনার গয়না।  জনসমাগমও বাড়ে এই সবদিনগুলিতে। 

পশ্চিমদিকে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ছয়টি আট চালার শিবমন্দির। প্রত্যেকটি মন্দিরে বিরাজ করছে তিন ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট কালো কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। ছয়টি শিবলিঙ্গ যথাক্রমে কল্যাণেশ্বর, কামেশ্বর, কিন্নরেশ্বর, কেদারেশ্বর, কৈলাসেশ্বর ও কপিলেশ্বর। দক্ষিণেশ্বরে ১২টি শিব মন্দির থাকলেও এখানে ৬টি শিবমন্দির। বলা হয় জগদম্বাদেবী দৈবাদেশ পেয়েছিলেন যে তার মা রাণী রাসমণির দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের কীর্তি যেন ছাপিয়ে না যান, তাই তিনটি-তিনটি ছয়টি মন্দির এই অন্নপূর্ণা মন্দিরে। 

উত্তরে তিনটি এবং দক্ষিণে তিনটি শিবমন্দিরের মাঝে একটি লোহার গেট আছে, যেখান দিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় অন্নপূর্ণা মন্দিরের গঙ্গার ঘাটে। এর উত্তর দিকে আছে শশ্মান ঘাট যা একটি পার্কের তলা দিয়ে গঙ্গার সাথে যুক্ত, তার পরে আছে বারাণশী ঘোষের স্নানের ঘাট এবং তার পরে আছে রাসমণী ফেরি ঘাট। 

অন্নপূর্ণা ঘাট (2021)

অন্নপূর্ণা ঘাট (2021)

অন্নপূর্ণা ঘাট (2026)

অন্নপূর্ণা ঘাট (2026)

অন্নপূর্ণা ঘাট (2026)

পুরোনো নহবতখানার একটি

পুরোনো নহবতখানার একটি

মন্দির খোলা থাকে গরমকালে ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত, আর বিকালে চারটে থেকে ৮টা পর্যন্ত। শীতকালে সকালে  ৬টা থেকে দুপুর ১টা অবধি এবং রাতে ৩-৩০ থেকে রাত ৮টা অবধি। 

একসময়ে এই মন্দিরের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে পড়েছিল। ইদানিং সিনেমা শুটিং-ইত্যাদিতে মন্দির প্রাঙ্গণ ভাড়া দেওয়াতে আর্থিকভাবে মন্দির পরিচালনায় সুবিধা হয়েছে। নন্দিতা-শিবপ্রসাদের 'বহুরূপী'র কাইম্যাক্স-এর পটভূমি এই মন্দির প্রাঙ্গণ। 

Annapurna Temple in the climax scene of Bahurupi


২০২১ এর পর থেকে এই মন্দিরটিকে নতুন করে রং করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ এর পর থেকে মন্দিরটিকে ঘিরে একটু হলেও বাণিজ্যীকরণ হয়েছে। জুতো রাখার জন্য ৫ টাকা দান নেওয়া হচ্ছে, তাতে অবশ্য মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে সুবিধা হবে। এছাড়াও গঠন হয়েছে রাণী জগদম্বা ফাউণ্ডেশন। সমাজ মাধ্যমেও এখন মন্দিরের আপডেট পাওয়া সম্ভব -instagram.com/annapurnamandir_barrackpore/

Location: 22°44′57″N 88°21′58″E

দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরের আদলে তৈরি দ্বিতীয় মন্দিরটি হল আগরপাড়ার গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি। এটি তৈরি করেন রাণী রাসমণির নাতি গোপালদাসের স্ত্রী গিরিবালা দেবী। মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার গগনচন্দ্র বিশ্বাস এবং এস এম ঘোষ অ্যান্ড কোং। সেই সময়েও খরচ হয় প্রায় তিন লক্ষ টাকা। তবে দক্ষিণেশ্বর বা অন্নপূর্ণা মন্দিরে মূল দেবতা কালী হলেও গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে আরাধ্য দেবতা হলেন রাধাগোবিন্দ জীউ। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এখানেও মূল মন্দিরের পশ্চিমে/গঙ্গার দিকে ৬টি পূর্বমুখী শিবমন্দির আছে - কামেশ্বর, রাজেশ্বর, গোপেশ্বর, তারকেশ্বর, ভুবনেশ্বর ও গিরিশ্বর। আর এই শিব মন্দিরগুলির দরজায় খিলানের ওপর রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার ছবি আঁকা আছে, যথা, কামেশ্বরে রয়েছে যুগল মিলন, রাজেশ্বর মন্দিরে মথুরানাথ, গোপেশ্বর মন্দিরে গোষ্ঠলীলা, তারকেশ্বর মন্দিরে অনন্তশয়ান, ভুবনেশ্বর মন্দিরে রাই মিলন ও গিরিশ্বর মন্দিরে কালিয়াদমনের ছবি আঁকা রয়েছে। 

বড়ামস্তান বিতর্কঃ 
বিটি রোডের উপর উত্তর দিকে টিটাগড়ের (বা টিটাগড় বাজার) পরের স্টপটি হল ব্রহ্মস্থান। এখান থেকে পশ্চিমদিকে গঙ্গার দিকে প্রায় ৮০০-৯০০ মিটার হেঁটে গেলেই অন্নপূর্ণা মন্দির। এই এলাকায় অনেক অবাঙ্গালী থাকায় এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের জন্য টিটাগড়ের কুখ্যাতির জন্য 'ব্রহ্মস্থান'-এর ধ্বনিপরিবর্তন হয়ে হয়েছে বড়ামস্তান। যদিও স্থানীয় পৌরসভা থেকে সাইনবোর্ডে পরিষ্কার লেখা আছে 'ব্রহ্মস্থান'।

No comments: